সরকারের নিবন্ধিত সংস্থা সামাজিক সংগঠন রাইট টক বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোয়ালিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে এ বছর ১৫টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ৫০ জন দেশসেরা উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজকর্মীদের হাতে সাফল্যের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারী) বিকালে রাজধানীর কচিকাঁচা কেন্দ্রীয় মেলা এই রাইট টক বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেক কাটার মাধ্যমে সপ্তম বছরে পদার্পণের এই অনুষ্ঠিত হয়। ্বছরের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যের চোখে একটুকরো বাংলাদেশ’। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্যোক্তারা এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেন।

রাইট টক বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিন এম তাওহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্টাইলিশ গার্মেন্টেসের চেয়ারম্যান ও ডিবিসি চ্যানেলের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চকবাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্টাইলিশ গার্মেন্টেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারী নেত্রী মাকসুদা চৌধুরী, সমাজসেবক সেলিম আহমেদ সালেম, রুশবাংলা কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব, রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (আরডিএস) এর চেয়ারম্যান গাউসুল আজম, রাইট টক বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল হক।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, রাইট টক বাংলাদেশ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী ইভা।  রাইট টক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আল আমিন এম তাওহীদ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল হক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী ইভাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উদ্যোক্তা ও সাফল্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও এই পুরস্কার তুলে দেন।

এসময় সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগামির বাংলাদেশ তারুণ্যের হাতে। তাই নতুন প্রজন্মরা মানবিক ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে দেশকে অন্যন্য উচ্চতায়  পৌছে নিবেন। সমাজ থেকে অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধে রাইট টক বাংলাদেশ এর সেচ্ছাসেবকরা অগ্রণী ভুমিকা পালন করবেন। দেশের জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজকর্মীদের অবদান সবচেয়ে বেশি।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে আগে প্রয়োজন মানবিক গুনাবলি ও চিন্তাশক্তি। সমাজের প্রতিটা মানুষ মানবিক হলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারের সবচেয়ে প্রশংসিত হতো। তাই রাইট টক বাংলাদেশ সবসময় একজন সুনাগরিক গড়ে তুলতে সেসব বিষয়ে কাজ করবে।

রাইট টক বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিন এম তাওহীদ বলেন, যে জাতি যত সভ্য সেই দেশ তত উন্নত হবে। সমাজ এখন জাহেলিয়া যুগে পরিনত হয়েছে। বাবার হাতে সন্তান নিরাপদ নেই, সন্তানের হাতে বাবা নিরাপদ নেই। অন্ধকার আর অত্যাচার এবং অমানবিকতা ভরে গেছে পুরো দেশ ও সমাজ। তাই আমাদের এখনি সময় সকল অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হলে তরুণ প্রজন্মকে সবচেয়ে ভুমিকা নিতে হবে।

পরে আলোচনা শেষে বিভিন্ন শ্রেণীর উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী, সংগঠক, সাফল্যদের মাঝে কোয়ালিফিকেশন এ্যাওয়ার্ড-২০২৫ তুলে দেওয়া হয়।

রাইট টক বাংলাদেশ এর এবারের ৫০জন এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মানবিক ও সমাজিক অঙ্গনে বিশেষ অবদান ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল হক, দেশ সেরা সমাজকর্মী ও সাহসী জান্নাতুল ফেরদৌসী ইভা, প্রতিদান ফাউন্ডেশন-সেরা সংগঠন, মো. আব্দুল কাউয়ুম- শ্রেষ্ঠ প্রাণী প্রেমী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। মো. সাদ্দাম হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-সাবেক সভাপতি, রাইট টক বাংলাদেশ। আমেনা খানম-সাহসী নারী, প্রতিষ্ঠাতা: ইউনিক নকশী হাউজ। সংগ্রামপুর রক্তসেবা ফাউন্ডেশন- জেলা পর্যায়ে সেরা সংগঠন,সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ। আনহা রহমান ইশা, সেরা নিত্যশিল্পী। শিমলা আক্তার, প্রতিষ্ঠাতা শিমলা বুটিকস-সাফল্য নারী।  মোসাৎ শাহনাজ পারভীন সাথী সাফল্য নারী, প্রতিষ্ঠাতা আফরিন ফ্যাশন হাউজ। মো. ইসমাইল -তরুণ সাংবাদিক। নাসিমা সর্দার নিঝুম-সাফল্য নারী। সাবরিনা শারমিন নিতু, সাফল্য নারী। কেয়া ইসলাম, সেরা নারী উদ্যোক্তা। আসমা সুলতানা পপি, সফল নারী উদ্যোক্তা। রেজিনা আক্তার শিল্পী, সেরা সমাজকর্মী। এমএম মোর্তুজা আলম, সফল ব্যবসায়ী। মিনা ইসলাম, মানবসেবায় বিশেষ অবদান, সভানেত্রী, তারার আলো। কাজী আনিসুজ্জামান আরজু মানবসেবায় বিশেষ অবদান। ফরিদা আক্তার পপি জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। আয়কর আইনজীবী মো: কামরুজ্জামান, আইন অঙ্গনে বিশেষ অবদান। মো: ইউনুস আল মামুন, বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যবসায়ী। সালাউদ্দিন আহমেদ, সংগঠক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক। মো. রাহাত মিয়া, সেরা স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠক। মো. হুমায়ুন কবীর। সমাজসেবা ও দেশ সেরা ক্যামেরাপার্সন আরটিভি। হাবিবুর রহমান হাওলাদার, সেরা সামাজিক সংগঠক। সফল নারী উদ্যোক্তা, খুকুমনি হারবাল বিউটি পার্লার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার। মো. ইসরাফিল হোসেন সেরা সমাজকর্মী। মো. রবিন  সমাজসেবায় বিশেষ অবদান। ইমরান হাদী, সেরা স্বেচ্ছাসেবক। এম এ রুমেল, সেরা সমাজকর্মী। কামরুল হাসান মেহেদী, সেরা সংগঠক। মো. ফোরকান হাওলাদার, মানবসেবায় বিশেষ অবদান। মো. সেলিম, সেরা সমাজকর্মী। নাজমুন্নাহার রিমা, সাহসী নারী। রবিউল ইসলাম রেদওয়ান, সেরা স্বেচ্ছাসেবক। রায়হান আহমেদ মুন্না, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক। মো. ফজলে রাব্বী, দক্ষ সংগঠক। মো. উজ্জল মিয়া, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক। সজীব ইসলাম, একজন সফল উদ্যোক্তা। আবুল কালাম আজাদ, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক।  

রাইট টক বাংলাদেশ একটি সামাজিক সংগঠন, ২০১৮ সালে এই সংগঠন সামাজিক ও মানবিক কাজকর্ম করার উদ্দেশ্য নিয়ে পথচলা শুরু করেন, বর্তমানে সংগঠনটির কাজকর্মে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং দেশ সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করেন উদ্যোক্তা ও সমােজসেবকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *